ADMIN

  • মোট ৪ টি রিভিউ লিখেছেন
  • .
  • ৩৯ দিন আগে রিভিউটি পোস্ট হয়েছে
রিভিউটি মা হওয়ার দিনগুলোতে কন্টেস্ট এ ১ম হয়েছে

মা হওয়ার দিনগুলোতে

১৮৪৮ সাল। স্কুলের হেডমাস্টার ছোট্ট ছেলেটার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে কড়া গলায় বললেন, "এটা বাড়ি গিয়ে শুধু তোমার মাকে দেবে। মা ছাড়া আর কেউ যেন এই চিঠি না খোলে, খবরদার!"

ছোট্ট ছেলেটির নাম টমাস। গুটিগুটি পায়ে বাড়ি ফিরল সে। মায়ের হাতে সেই রহস্যময় খামটা তুলে দিয়ে উৎসুক চোখে তাকিয়ে রইল। কী আছে এতে?

মা ন্যান্সি এডিসন চিঠিটা খুললেন। পড়তে শুরু করলেন। হঠাৎ করেই তাঁর চোখ ছলছল করে উঠল, গড়িয়ে পড়ল পানি। ছোট্ট টমাস অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, "মা, তুমি কাঁদছ কেন? মাস্টরমশাই কী লিখেছেন চিঠিতে?"

মা চোখের পানি মুছে, নিজেকে সামলে নিলেন। তারপর খুব গর্ব নিয়ে জোরে জোরে পড়তে শুরু করলেন—“আপনার ছেলে টমাস একজন জিনিয়াস! ও অসম্ভব মেধাবী। আমাদের স্কুলটা ওর জন্য বড্ড ছোট। তাছাড়া ওকে শেখানোর মতো পর্যাপ্ত দক্ষ শিক্ষকও আমাদের নেই। দয়া করে আজ থেকে আপনার ছেলেকে আপনি নিজেই বাড়িতে পড়াবেন।”

মায়ের মুখে এই কথা শুনে ছোট্ট টমাসের বুকটা গর্বে ফুলে উঠল। মা তাকে বুকে জড়িয়ে নিলেন। সেদিন থেকেই শুরু হলো মায়ের পাঠশালায় টমাসের নতুন জীবন।

বাকিটা ইতিহাস। সেই টমাস আলভা এডিসন, যিনি বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কার করে পৃথিবীকে আলোকিত করেছেন, গ্রামোফোন আবিষ্কার করে শব্দকে বন্দি করেছেন। শতাব্দীর সেরা বিজ্ঞানী হিসেবে যার নাম ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা।

বহু বছর পরের কথা। মা ন্যান্সি এডিসন তখন আর বেঁচে নেই। এডিসন তখন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। একদিন তিনি বাড়ির পুরনো জিনিসপত্র ঘাঁটছিলেন। হঠাৎ একটা ড্রয়ারের কোণায় ভাঁজ করা হলদেটে হয়ে যাওয়া সেই পুরনো চিঠিটা খুঁজে পেলেন। সেই ছোটবেলার চিঠি, যেটা হেডমাস্টার দিয়েছিলেন।

কৌতূহল নিয়ে এডিসন চিঠিটা খুললেন। ভাবলেন, দেখি তো ছোটবেলায় আমার মেধার প্রশংসা করে স্যাররা কী লিখেছিলেন!

চিঠিটা পড়ার পর এডিসন পাথর হয়ে গেলেন। কারণ, মা সেদিন যা শুনিয়েছিলেন, চিঠির ভাষা তা ছিল না। তাতে লেখা ছিল—
“আপনার ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ ও হাবাগোবা। সে পড়াশোনার অযোগ্য। আমরা তাকে আর আমাদের স্কুলে রাখতে পারছি না। তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হলো।”

ভাবতে পারেন? সমাজ যাকে ‘বাতিল’ বলে ছুড়ে ফেলেছিল, মায়ের বিশ্বাস তাকে ‘সেরা’ বানিয়ে ছাড়ল। একজন মা কেবল সন্তানকে গর্ভেই ধারণ করেন না, তিনি সন্তানের ভবিষ্যৎ, আত্মবিশ্বাস আর মেরুদণ্ডটাও গড়ে দেন। মা যদি সেদিন ভেঙে পড়তেন, যদি সমাজ আর স্কুলের কথায় বিশ্বাস করে সন্তানকে অবজ্ঞা করতেন, তবে পৃথিবী হয়তো আজও অন্ধকারে ডুবে থাকত।

প্রিয় বোন, আপনিও হয়তো মা হতে চলেছেন। আপনার অনাগত বা কোলে আসা সন্তানটি আপনার কাছে শুধুই একটি মাংসপিন্ড নয়, একটি সম্ভাবনা। তার প্রথম স্কুল আপনি, তার প্রথম শিক্ষকও আপনি। গর্ভকালীন সময় থেকে একটি ইতিবাচক বাক্য, একটুখানি সঠিক গাইডলাইন বদলে দিতে পারে তার পুরো জীবন।

গর্ভকালীন সময় থেকেই একজন মা কীভাবে সন্তানের মগজে ও মননে প্রভাব ফেলতে পারেন—এটি সহ উক্ত সময়ের বিস্তারিত গাইডলাইন নিয়ে সাজানো হয়েছে ‘মা হওয়ার দিনগুলোতে' বইটি।

এই বইয়ের আরও রিভিউ

অন্যান্য রিভিউ

সব রিভিউ দেখুন