ADMIN

  • মোট ৪ টি রিভিউ লিখেছেন
  • .
  • ৩৮ দিন আগে রিভিউটি পোস্ট হয়েছে

সাদ (রা.) এর পরীক্ষা

ভালোবাসার পরীক্ষাগুলো বড্ড কঠিন, তাই না?

আর সেই পরীক্ষা যদি হয় মায়ের ভালোবাসার বিপরীতে নিজের ঈমানকে দাঁড় করানোর, তাহলে পরিস্থিতিটা কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা কি আমরা কল্পনা করতে পারি?

সাদ ইবনু আবি ওয়াক্কাস (রা.), রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সেই সৌভাগ্যবান সাহাবি, যাঁকে দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ দেওয়া হয়েছিল, তাঁকে ঠিক এমনই এক কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল। এই পরীক্ষা ছিল তাঁর ঈমানি দৃঢ়তার, তাঁর রবের প্রতি ভালোবাসার এক অগ্নিপরীক্ষা।
সাদ (রা.) ছিলেন তাঁর মায়ের অত্যন্ত আদরের সন্তান। মা তাঁকে এতটাই ভালোবাসতেন যে, তাঁর সামান্যতম কষ্টও সহ্য করতে পারতেন না। যখন তিনি জানতে পারলেন, তাঁর কলিজার টুকরা সন্তান ইসলাম গ্রহণ করেছে, তখন তিনি যেন আকাশ থেকে পড়লেন। তিনি ভাবলেন, তাঁর ভালোবাসা দিয়েই সাদকে ফিরিয়ে আনবেন। তাই তিনি এক চরম সিদ্ধান্ত নিলেন—আমরণ অনশন।

তিনি ঘোষণা দিলেন, ‘সাদ যতক্ষণ মুহাম্মাদের (ﷺ) দ্বীন ত্যাগ না করবে, ততক্ষণ আমি মুখে একদানা খাবার বা এক ফোঁটা পানিও তুলব না। আমি এভাবেই মরব, আর সারা আরব তোমাকে ‘মাতৃহন্তা’ বলে ধিক্কার দেবে।’

কী কঠিন এক পরিস্থিতি! একদিকে জন্মদাত্রী মায়ের জীবন, অন্যদিকে নিজের ঈমান। আমাদের সময়ে হলে হয়তো অনেকেই দোটানায় পড়ে যেতেন। কিন্তু সাদ (রা.)-এর অন্তর ছিল তাওহিদের আলোয় এতটাই উজ্জ্বল যে, সেখানে কোনো সন্দেহের অবকাশ ছিল না।

তিনি তাঁর মাকে ভালোবাসতেন, কিন্তু তাঁর রবের ভালোবাসা ছিল সবকিছুর ঊর্ধ্বে। তিনি মায়ের কাছে গেলেন, তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন। কিন্তু মা যখন তাঁর সিদ্ধান্তে অটল, তখন সাদ (রা.) তাঁর জীবনের সেই ঐতিহাসিক উক্তিটি করলেন, যা আজও প্রতিটি মুমিনের অন্তরকে কাঁপিয়ে দেয়। তিনি বললেন, ‘মা! আল্লাহর কসম, আপনি জেনে রাখুন, আপনার যদি একশোটা প্রাণ থাকত, আর সেই প্রাণগুলো একে একে বের হয়ে যেত, তবুও আমি এই দ্বীন ছাড়ব না।’

সুবহানাল্লাহ! ভালোবাসার কী অপূর্ব প্রকাশ, আবার ঈমানের কী অকল্পনীয় দৃঢ়তা! এই একটি বাক্যই বুঝিয়ে দেয়, তাঁদের কাছে ঈমানের মূল্য কতখানি ছিল।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই তো আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা পবিত্র কুরআনে আয়াত নাযিল করেছিলেন, যেখানে তিনি পিতা-মাতা শিরকের আদেশ দিলেও তাদের আনুগত্য করতে নিষেধ করেছেন, তবে দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে বলেছেন।

সাহাবিদের জীবন তাই আমাদের জন্য শুধু কিছু গল্পের সমাহার নয়, বরং এটি এক জীবন্ত পাঠ। এই পাঠ আমাদের শেখায়, কীভাবে ভালোবাসতে হয়, কীভাবে ত্যাগ করতে হয়, আর কীভাবে ঈমানের প্রশ্নে পাহাড়ের মতো অটল থাকতে হয়।

কীভাবে সেই সাধারণ মানুষগুলো আল্লাহর রাসুলের স্পর্শে সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিলেন? তাঁদের জীবনের সেই অসাধারণ পাঠগুলো আরও গভীরভাবে জানতে পড়ুন ‘সুরভিত সাহাবি জীবন’ বইটি। বইটি আপনাকে সেই সোনালি মানুষদের জগতে নিয়ে যাবে, যাঁদের জীবনের গল্প আজও আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়।

এই বইয়ের আরও রিভিউ

অন্যান্য রিভিউ

সব রিভিউ দেখুন